Homeফিচারডব্ল্যাকহোলে বিলীন হওয়া বিএনপির করুণ পরিণতি

ব্ল্যাকহোলে বিলীন হওয়া বিএনপির করুণ পরিণতি

Published on

spot_img

মহকাশের মহাজাগতিক বিস্ময় ব্ল্যাকহোল। আলোর মত মহাপরাক্রমশালী শক্তিকেও গিলে খেতে সক্ষম ব্ল্যাকহোল। এটা এমনই সর্বগ্রাসী যে, সে তার প্রতিবেশে যা পায় সবই গ্রাস করে, কিছুই ফিরিয়ে দেয় না। পৃথিবীর চেয়ে হাজারগুণ বড় গ্রহকেও আনায়াসে গিলে হজম করে ফেলে ব্ল্যাকহোল। সমর্থক সংখ্যার বিচারে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিএনপিও তেমনি বিলীন হয়ে গেছে ব্ল্যাকহোলের অন্ধকারে। যেখান থেকে আর ফিরে আসার উপায় নেই। একটু বিশ্লেষণ করা যাক।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নতুন নতুন কর্মকৌশলের নামে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেও ইতিমধ্যে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কর্মীরা জানতে চাইছেন, এসব কর্মসূচির শেষ কোথায়? মূলত ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই ব্যাকফুটে বিএনপি। পরবর্তী ৩টি নির্বাচনের দুটি বর্জন করেছে তারা, ২০১৮ সালের নির্বাচনে গিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে।

যদিও বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কথায় ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন ছিল বড় ভুল। তাই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যেতে সরাসরি আহ্বান জানান ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ। দলত্যাগকারী আরেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর নির্বাচনে গিয়ে বলেছেন, “আর কতবার নির্বাচনের বাইরে থাকব?” কর্মী-সমর্থকরাও ভেবেছিল শেষপর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে যাবে। কিন্তু বিএনপি তাদের পালস বুঝতে ব্যর্থ।

আরও পড়ুন : BNP’s social media handles spreading lies, disinformation

আসন্ন সিটি ও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক দিচ্ছে না জেনেও বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছেনা। বারবার সেই পুরনো রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছে, সরকার পতনের পর নির্বাচনে যাবে। অথচ ২০১৪ সালে বিএনপির ভোট বর্জনের পর আওয়ামী লীগ আরো ২ মেয়াদ পূর্ণ করেছে। তবুও বিএনপির ভাঙা রেকর্ড বেজেই যাচ্ছে। বিএনপি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যায়নি বলে তাদের কর্মী-সমর্থকরাও ভোট দিতে যাননি। এই না যাওয়াটাই স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের কাছে সাফল্য। তিনি দাবি করছেন, “কেন্দ্রে ভোটার আসেনি, এটাই আমাদের আন্দোলনের সফলতা।” কী হাস্যকর বিএনপির চিন্তা-ভাবনা!

নির্বাচনের ২ দিন পর শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। হয়ে যাওয়া নির্বাচন বাতিল, কালো পতাকা মিছিলসহ হাস্যকর কর্মসূচি দেয়। আত্মগোপনে থাকা বিএনপি নেতারা বেরিয়ে এসে রাজপথে ফটোসেশন করে কর্মসূচির নামে। নতুন সংসদ অধিবেশনে বসার দিন ৩০শে জানুয়ারিও একইভাবে ফটোসেশন চলে রাজপথে। ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে দিয়েই কর্মসূচি শেষ। এসব নাটকে কর্মী-সমর্থকরা হতাশ। কেন্দ্রীয় নেতাদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দলীয় কার্যালয়ে নিজেরা তালা দিয়ে ভোটের ৪ দিন পর কেন সেই তালা হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার নাটক করতে হলো? কেন নির্বাচনের আগে কার্যালয়ে ঢোকেনি বিএনপি? এসব প্রশ্নের জবাব দেয়নি কেউ। নেতাদের কাছ থেকে উপযুক্ত দিকনির্দেশনা না আশায় কর্মী-সমর্থকরা বুঝে নিয়েছেন, এভাবেই হম্বিতম্বি করে কাটবে আরও ৫ বছর। সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের এমন হতাশার চিত্র।

আরও পড়ুন : তারেকের ভুল নেতৃত্বে ডুবছে বিএনপি

বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতা নতুন নয়। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত নেই। পাকিস্থানি মতাদর্শে ক্যান্টনমেন্টে সৃষ্ট এই দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তার কলঙ্কজনক ইতিহাস বাঙালি জানে। দশম সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে হরতাল অবরোধের নামে সহিংসতা করে বিএনপি। শত শত মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। সারাদেশে হাজার হাজার গাড়ি পুড়িয়েছে, পঙ্গু করেছে অসংখ্য মানুষকে। তবুও নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। সেই কর্মসূচি প্রত্যাহার না করেই ঢাকা সিটি নির্বাচনে যায় বিএনপি।

২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার সাজা বাতিলের দাবিতে সারাদেশ জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েও ব্যর্থ হয়। বিএনপির দাবিতে নয়, বরং সরকারের বদান্যতায় খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রয়েছে বর্তমানে। বিএনপির আরেক ব্যর্থতা, তাদের নেত্রীর বিদেশে চিকিৎসার দাবি আদায় করতে না পারা। কারণ, তাদের কোনো দাবির সাথে একাত্ম ছিলনা দেশবাসী।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনও ঠেকাতে পারেনি বিএনপি। তাদের সেই সামর্থও ছিলনা। তারা অপেক্ষায় ছিল যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা শেখ হাসিনা সরকারকে বকে দেবে এবং রাষ্ট্রক্ষমতা শিশুর হাতের মোয়া বানিয়ে বিএনপির হাতে তুলে দেবে। বিএনপির ভাড়াটে গুজববাজদের ভুয়া ভিডিও দেখে কর্মী-সমর্থকরাও তাই আশা করেছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত সব ব্যর্থ হলো।

আরও পড়ুন : জাতীয় পার্টি হতে বিএনপির আর বাকি মাত্র ছয় মাস

যেসব দেশের সাথে ব্যবসা লাভজনক, পশ্চিমারা সেসব দেশে অস্থিতিশীলতা কখনই চায় না। বাংলাদেশের ভৌগলিক গুরুত্ব এবং শেখ হাসিনা সরকার পশ্চিমাদের জন্য অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ যেমন নিজ স্বার্থে অনেক কিছু আদায় করে নিচ্ছে, তেমনি পশ্চিমারাও শেখ হাসিনা সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজেরা লাভবান হচ্ছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকারসহ নানান ইস্যু ছিল দর কষাকষির অস্ত্র। দিনশেষে সবাই নবনির্বাচিত শেখ হাসিনা সরকারকে সমর্থন জানিয়ে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা এটাও বুঝে গেছে, বিএনপির মত নেতৃত্বহীন ভুয়া রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা তাদের জন্য লস প্রজেক্ট।

আরও পড়ুন : নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের স্টেটমেন্টে বিএনপির জন্য লাভের কিছু নেই, শুধুই হতাশা!

বলা যায়, আম-ছালা উভয় হারিয়ে বিএনপি এখন দিশেহারা। তবে বিএনপির একা ভরাডুবি হয়নি। ডুবেছে তাদের সুরে সুর মেলানো আরও অনেক দল। সরকার পতনের জন্য বিএনপি কিছু আলাদা জোট করেছে। যেমন, গণতন্ত্র মঞ্চ, ২০ দলীয় জোটের সাবেক শরিকদের ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, লেবার পার্টি, এনডিএসহ ৩০টির বেশি ছোটখাট দল নিয়ে গড়া জোট। বিএনপির মত তারাও নির্বাচন বর্জন করে একইসাথে ডুবেছে।

আরও পড়ুন : “Either with us or against us”: BNP’s cronies attack foreign delegates over polls

তবুও কর্মী-সমর্থকদের সামনে আশার মূলা ঝুলিয়ে রেখেছেন বিএনপি নেতারা। চাবি থাকতেও হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে কার্যালয়ে ঢোকা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দাবি, “বিএনপির কর্মসূচিতে সাফল্য আসবেই। সরকার পিছু হটতে বাধ্য হবে। বিএনপি জনগণকে নিয়ে আন্দোলনে আছে। আন্দোলনের জনস্রোতই সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজাবে।”

খাদের কিনারায় পৌঁছানো মানুষ যেমন করুণ পরিণতি জেনেও নিজেকে স্বান্তনা দেয়, বিএনপি নেতারা সেটাই করছেন। তবে তারা খাদের কিনারে নয়, ব্ল্যাকহোলে ঢুকে গেছেন। যেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন :

Latest articles

প্যান্ডোরা-প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির নায়ক বিএনপির কালো বিড়াল মিন্টুও দুর্নীতিবাজের তালিকা করছেন!

প্যান্ডোরা-প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির নায়ক বিএনপির কালো বিড়াল মিন্টুও দুর্নীতিবাজের তালিকা করছেন! বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা...

চোরের মা-বাবার বড় গলা : দুর্নীতি নিয়ে বিএনপির বাগাড়ম্বর

বাংলা প্রবাদ বলে, আপনি আচরি ধর্ম শিখাও অপরে। অর্থাৎ, কোনো কিছু নিয়ে অন্যকে সবক...

মিথ্যা দিয়ে সত্য ঢাকতে গিয়ে সত্য প্রকাশ করে ফেললেন মির্জা ফখরুল!

সামরিক স্বৈরাচার "জিয়া বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন" এই সত্যকে মিথ্যা প্রমান করার জন্য ফখরুল সাহেব...

More like this

প্যান্ডোরা-প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির নায়ক বিএনপির কালো বিড়াল মিন্টুও দুর্নীতিবাজের তালিকা করছেন!

প্যান্ডোরা-প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির নায়ক বিএনপির কালো বিড়াল মিন্টুও দুর্নীতিবাজের তালিকা করছেন! বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা...

চোরের মা-বাবার বড় গলা : দুর্নীতি নিয়ে বিএনপির বাগাড়ম্বর

বাংলা প্রবাদ বলে, আপনি আচরি ধর্ম শিখাও অপরে। অর্থাৎ, কোনো কিছু নিয়ে অন্যকে সবক...

মিথ্যা দিয়ে সত্য ঢাকতে গিয়ে সত্য প্রকাশ করে ফেললেন মির্জা ফখরুল!

সামরিক স্বৈরাচার "জিয়া বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন" এই সত্যকে মিথ্যা প্রমান করার জন্য ফখরুল সাহেব...